src='https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js'/> মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয়ের নামে প্রতারণা

মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয়ের নামে প্রতারণা

ফেসবুক ইউটিউবে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার অনেক মাধ্যম দেখে থাকি। মাঝেমাঝে সেইসব বিশ্বাস হয় অনেকের আবার বিশ্বাস হয়না। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মোবাইলে অনলাইনে আয়ের যে মাধ্যম বলা হয়ে থাকে, সেগুলো প্রতারণা। কিভাবে বুঝবেন কোনটি প্রতারণা নাকি কোনটি আসল! এই নিয়েই আমাদের আজকের আর্টিকেল লিখা হয়েছে।

মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয়ের নামে প্রতারণা
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয়ের নামে প্রতারণা 

ফেসবুকে প্রবেশ করলেই দেখি,মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে লাখ লাখ টাকা আয় করুন। আসলেই কি ঘরে বসে আয় করা যায়? নাকি সব ভন্ডামি।

আপনি যখন অনলাইনে টাকা আয়ের নিয়ম জাতীয় পোস্টে দেখবেন কোন লিংক দেয়া আছে। সেই লিংকে গেলে দেখবেন যে, সেখানে টাকা দিয়ে জয়েন কররে বা রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। যেসমস্ত সাইটে টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে কাজ করতে হয়, নিশ্চিতভাবে ধরে নিবেন সেগুলা প্রতারক সাইট। রেজিস্ট্রেশন ফি যত টাকাই হোক, সেটা নিশ্চিত প্রতারক। তারা প্রথমদিকে যে কাজটি করে, সেটি হলো তারা বলবে আপনি টাকা দিয়ে জয়েন করুন। তারপর আপনি আরেকজনকে জয়েন করালে আপনার ইনকাম হবে। এটাকে ব্যাবসায় ভাষায় বলে এমএলএম। এই এমএলএম এক ব্যাবসায় কারো কারো দৃষ্টিতে ভালো আবার কারো কারো দৃষ্টিতে খারাপ। তবে আমাদের বাংলাদেশে এই এমএলএম ব্যাবসায়কে প্রতারণা ব্যাবসায় রূপ দিয়েছে একশ্রেণীর প্রতারক।

এমএলএম শব্দের অর্থ মাল্টি লেভেল মার্কেটিং। মানে বিভিন্ন ধাপে বাজারজাতকরণ করা হয়। আপনি একবার কিছু পন্য কিনবেন। আমি আপনার অধীনে যোগদান করে পন্য কিনলে, সেটার থেকে লাভাংশ আপনিও পাবেন। তবে সেটা কমিশন আকারে। এটার ফলে যা হবে, তা হলো যিনি পন্য কিনবেন, তিনি ঠকবেন। কারন এখানে যেহেতু পন্যমূল্য বিভিন্ন ভাগে লাভাংশ দেয়া হচ্ছে সেহেতু দাম তুলনামূলক অনেক বেশি ধরা হচ্ছে।

এছাড়া আরেক ধাপ আছে, যারা কিনা নামে অনলাইন শপিং, কাজে অনলাইন প্রতারণা করে। তাদের কাছে প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিয়ে জয়েন করতে হবে। তারপন রেফার লিংক শেয়ার করে অন্যকে জয়েন করালেই ইনকাম হবে। তারমানে প্রথমে আপনি নিজে তাদের ক্ষপড়ে পড়ে বলদ হবেন, তারপর রেফার লিংক শেয়ার করে অন্যদের বলদ বানাবেন। এটাই হলো তাদের অনলাইন জব।

ফেসবুকে এমন ভাবে পোস্ট লিখে যে,পোস্ট দেখেই অনেকে মুগ্ধ হয়ে যায়। অনলাইনে জব করুন। আজীবন ইনকামের গ্যারান্টি সহ অনলাইন জব করুন ইত্যাদি কথাবার্তা লিখে পোস্ট লিখা থাকে। ইনবক্স করলে বলা হয়, টাকা দিয়ে জয়েন করুন। জয়েন করলেই ইনকাম। তারপর জয়েন করার পরে বলা হয়,জয়েন করেছেন এইবার আপনাকে কাজ বুঝিয়ে দিব। কাজ বলতে,আপনি যেভাবে বেকুব হয়ে জয়েন করেছেন ঠিক তেমনি অন্যকে বেকুব বানিয়ে জয়েন করান।

এখন আপনিতো নিজে ইতিমধ্যে টাকা ইনভেস্টমেন্ট করে জয়েন করে ফেলেছেন। চাইলেও এটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। এখন আপনি যদি আরো দুইচারজনকে মদন বানিয়ে জয়েন করাতে পারেন তাহলে আপনার পুঁজি উঠে যাবে। আপনার পুঁজি উঠাতে গিয়ে যদি আরো কয়েকজনকে বেকুব বানিয়ে জয়েন করাতে পারেন। এই টাকার নেশায় একসময় আপনিই প্রতারকের গুরু হয়ে যাবেন। তখন অনলাইন ইনকামের নামে প্রতারণা করতে করতে, সেটাই হয়ে যাবে আপনার ব্যাবসা। তখন আপনি হবেন সেই ব্যাবসায়ের গুরু। মানুষকে সেমিনারের নাকে মগজধোলাই করবেন। কিভাবে কথার মারপ্যাঁচে ফেলে মানুষকে বোকা বানিয়ে আপনার প্রতারক কোম্পানিতে জয়েন করাতে হয়। কিভাবে ভূয়া এডিট করা সরকারি রেজিস্ট্রেশন কাগজ বানিয়ে মানুষের আই ওয়াশ করা যায়।

বাংলাদেশে অনলাইনে আয় করার জন্য এমন প্রতারক সাইটের অভাব নেই। প্রতারক সাইটের পাশাপাশি রয়েছে কিছু প্রতারক কোম্পানি। যারা তাদের প্রতারণার কাজকে জব বলে দাবী করে। তারা আপনাকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে কিছু চাইনিজ পন্য ধরিয়ে দিবে। তারপর বলবে আপনি লোক জয়েন করাতে পারলেই আপনার টাকা ইনকাম শুরু হবে। আপনাকে কিছুই করতে হবেনা, আপনি চাপাবাজি না জানলেও হবে। আপনার আপনার মক্কেলকে কোনরকমভাবে তাদের অফিসে নিয়ে গিয়ে হাজির করুন। আপনার রেফারারকে মগজধোলাই করিয়ে বেকুব বানানোর জন্য তাদের বিশেষজ্ঞ টিম সদা প্রস্তুত আছে।

এই হলো এক শ্রেনির প্রতারক অনলাইন ইনকামের গল্প। আরেক শ্রেণি আছে, যারা টিভি ফ্রিজ সহ বিভিন্ন দুইনাম্বার পন্য বিক্রি করে। তাদের এখান থেকে কাউকে টিভি ফ্রিজ কেনাতে পারলেই আপনার ইনকাম শুরু হবে। কারন তারা এলজির লগো লাগানো দুইনাম্বার টিভি, সনির লগো লাগানো দুইনাম্বার টিভি,মাইক্রোওভেন,কুকার সহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে। আপনার রেফারে তাদের থেকে কেউ পন্য কিনলেই আপনি বিশাল অংকের কমিশন পাবেন। আপনি শুধু সারাদিন অনলাইনে তাদের পন্যের প্রশারে পোস্ট করে যাবেন। এটাই হলো ঘরে বসে লাখ লাখ টাকা আয়ের মাধ্যম। যাকে সত্যিকার অর্থে বলে,ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ইনকামের নামে প্রতারণা কাজ।

আবার আরেক ক্যাটাগরি আছে, যাদের কাজ হলো মোবাইলে এপ্স ডাউনলোড করা। তারপর সেই এপ্সে বিজ্ঞাপন দেখা। বিজ্ঞাপন দেখলে আপনাকে রিচার্জ বা বিকাশে টাকা দিবে। এদের মধ্যে এক শ্রেনি আছে যারা বলবে এপ্স ডাউনলোড করার পরে রেজিস্ট্রেশন করে আইডি এক্টিভ করতে হবে। আইডি এক্টিভ করলে বেশি বেশি আয় হবে,বেশি বেশি বিজ্ঞাপন আপনাকে দেখাবে। এটা হলো এক ভিন্ন প্রতারণার কৌশল। তারা প্রথম প্রথম টাকা দিবে। নির্দিষ্ট সময় যাবার পরে যখন দেখবে, সদস্য সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। তখন সময়সুযোগ বুঝে উধাও। টাকা দেয়া বন্ধ। এই হলো আজীবন ইনকাম করার অনলাইন সাইটের নমুনা।

মনে রাখবেন, এইদেশে ঘরে বসে অনলাইন ইনকাম করা ততটা সহজ নয়। যারা লেখালেখি করে,ব্লগ বা সাইটে লিখে, যাতা ফ্রিল্যান্সিং করে, ডিজাইনিং করে, ইউটিউবিং করে, ভিডিও এডিটিং জানে বা কোন না কোন কাজ করে, তারাই প্রকৃত অনলাইনে ইনকাম করে।

সাইটে ঢুকে এড দেখে,ভিডিওতে ক্লিক করে বিজ্ঞাপন দেখে এটাকা অনলাইন ইনকাম বলেনা। আর সত্যিকার অনলাইন ইনকাম সাইটে কখনোই কাজের শুরুতে টাকা ইনভেস্টমেন্ট করতে হয়না।

আশাকরি আমাদের আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনার যে তথ্য জানার প্রয়োজন ছিল সেটি জানতে পেরেছেন। কোন জানার বা মন্তব্য থাকলে মন্তব্য করতে পারেন। স্মার্টফোন বিষয়ক নিত্যনৈমিত্তিক অনেকে অজানা তথ্য আমাদের এই সাইটে আপনি পাবেন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Page লাইক দিয়ে এক্টিভ থাকুন। সাইটের নিচের অংশে আমাদের ফেইসবুক পেইজ দেয়া আছে। সেখানে স্মার্টফোন সম্পর্কিত নিয়মিত নিত্যনতুন আরো অজানা তথ্য জানতে পারবেন।

Previous Post Next Post