src='https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js'/> মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা সম্ভব?

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা সম্ভব?

আমাদের সাইটে যেহেতু মোবাইল ফোন নিয়ে রিভিউ করি, তাই অনেকেই আমাদের কাছে বিভিন্নসময় জানতে চায় মোবাইল ফোন দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা সম্ভব কিনা। অনেকেই আছে মোবাইলে ঘরে বসে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। আমরা শুনে থাকি তারা নাকি ফ্রিল্যান্সার! আসলেই কি মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা যায়? এই বিষয়ে পূর্নাঙ্গ ধারনা পেতে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয়
মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয়

আমরা অনেকেই আছি ফ্রিল্যান্সার শব্দটি শুনেছি কিন্তু এই ফ্রিল্যান্সিং মানে কি, সেটা অনেকেই জানিনা। ফ্রিল্যান্সার মানে হলো নিজেই নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। অনেকেই দেখবেন ফেইসবুক আইডিতে কাজের স্থানে লিখে দেয় ফ্রিল্যান্স টিউটর। তার মানে হলো সে নিজেই নিজের টিউশন খুঁজে নিয়ে থাকে। যেখানেই টিউশন পায় সেখানেই টিউশন করায়। ফ্রিল্যান্সার মানে, সে তার নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিয়ে নিজের কাজ নিজেই করে নেয়। যেমন আমি আজ এই আর্টিকেলটি লিখছি। আমি একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার। এই কাজের মাধ্যমে আমার নির্দিষ্ট পরিমান টাকা আয় হচ্ছে। আশাকরি ফ্রিল্যান্সি কি সেটা সম্পর্কে মোটামুটি হলেও ধারনা পেয়েছেন।

এখন আসি, ফ্রিল্যান্সারের কাজ কি? ফ্রিল্যান্সারের কাজের পরিধি ব্যাপক। আমরা ফ্রিল্যান্সার বলতে যারা অনলাইনে কাজ করে টাকা আয় করে তাদেরকে বুঝে থাকি। অনলাইনে কাজ করা বলাটা যত সহজ, কাজ করে টাকা আয় ততটাও সহজ নয়। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য নির্দিষ্ট একটা দক্ষতা ও যোগ্যতা লাগে। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সারের ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ থাকে। তারা ল্যাপটপে বিভিন্ন কাজ করে টাকা আয় করে। যেটাকে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা বলে। ফ্রিল্যান্সিং কাজগুলো অনেকটা এমন টাইপ যে, কোন ডিজাইনিং করা, কোন ওয়েবসাইট বানানো, কোন সাইট ডিজাইন করা, ডাটা এন্ট্রি করা, লেখালেখি করা ইত্যাদি। এই কাজগুলো করতে ল্যাপটপ বা ডেক্সটপের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।  কারন এইসব কাজ করতে মোবাইল দিয়ে করা অনেকটাই সম্ভব। লেখালেখি করার কাজটা কিছুটা মোবাইল ফোন দিয়ে করা যেতে পারে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং যত কাজ আছে,সেগুলা মোবাইল দিয়ে করা সম্ভব নয়।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে ইউটিউব ফেসবুকে যে দেখি,মোবাইল দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করুন, ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা আয় করুন এগুলা কি?

এগুলো হলো অনলাইন প্রতারণা। এইধরনের সাইটে কোন কোন ক্ষেত্রে আপনাকে বিজ্ঞাপন দেখে ক্লিক করতে বলবে। বিজ্ঞাপন দেখে ক্লিক করলে পয়েন্ট জমা হবে। সেই পয়েন্ট দিয়ে টাকায় রূপান্তর করতে পারবেন। এগুলা ক্ষনস্থায়ী কাজ। সল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে। কোন কোম্পানিকে বোকা বানিয়ে বিজ্ঞাপনে ভূয়া ক্লিকবাজি করে টাকা আয় করা হয়। সেই টাকার অংশ আপনাকে দেয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় পরে যখন কোম্পানি বুঝতে পেরে একাউন্ট ডিলিট করে দেয়,তখন আপনারো পেমেন্ট বন্ধ! এটাই ঘরে বসে মোবাইলে হাজার হাজার টাকা ফ্রিল্যান্সিং করে আয়। আরেকটি সিস্টেম আছে, যারা বিভিন্ন বিভিন্ন সাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে বলবে। রেজিস্ট্রেশন করতে আবার রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে। আপনি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিয়ে সাইটে জয়েন করবেন। তারপর যতজনকে এইভাবে জয়েন করাতে পারবেন, তত ইনকাম। এটা হলো নিজে প্রতারকের ক্ষপ্পড়ে পড়ে,অন্যকে ফাঁদে ফালানো। এমন বেশ কয়েকটি সাইট ফেসবুকে ঢুকলে দেখা যায়। তারা আবার ঘরে বসে মোবাইলে হাজার হাজার টাকা আয় করছে। এইধরনের কাজকে কখনোই ফ্রিল্যান্সিং বলেনা। এইগুলাকে বলে ফ্রিল্যান্সারের নাম বিক্রি করে প্রতারণা। আমাদের বাংলাদেশের সাইবার গোয়েন্দা টিম এখন আগেরচেয়ে অনেক শক্তিশালী। যারা এইধরনের কাজ করে,তারা যেকোনসময় আইনের হাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

আপনার এলাকায় বা আপনার পরিচিত যেসকল ছেলেমেয়ে দেখবেন নিজস্ব কোন দক্ষতা নেই কিন্তু ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা আয় করে। আপনি জিজ্ঞাসা করলে বলে ফ্রিল্যান্সার। তখন জানার চেস্টা করবেন সে আসলে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের কোন মাধ্যমে আছে। কি কাজ করে সে টাকা আয় করছে। তবে শুধুমাত্র মোবাইল ফোন দিয়ে হাজার হাজার টাকা আয় করা সম্ভব নয়। কারন মোবাইল ফোন যত দামীই হোকনা কেন, সেটার একটা প্রতিবন্ধকতা আছে। নির্দিষ্ট একটা পর্যায়ে এসে ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কম্পিউটার লাগবেই। তাই কেউ যদি বলে ঘরে বসে মোবাইলে টাকা আয় করে, সেক্ষেত্রে সম্ভব। সে যদি কোন সাইটে লেখালেখি করে,তখন টুকটাক আয় করা সম্ভব। এছাড়া কেউ যদি বিকাশ এপ্সে রেফার করে টাকা আয় করে বা বিকাশের মতো এমন মোবাইল ব্যাংকিং এপ্সে টাকা আয় করে তখন মোবাইল দিয়ে আয় করা যায়। এছাড়া কেউ যদি টিকটক বা স্নাক ভিডিও এই টাইপে এপ্সে কাজ ভিডিও বানিয়ে থাকে। তখন সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র মোবাইল ফোন দিয়েই ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা আয় করা যাবে। সেটাকেও আবার কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সারের সংজ্ঞায় ফেলার চেস্টা করে। তবে এটাকে এক হিসেবে ফ্রিল্যান্সার বলেনা। এটাকে বলে শর্ট ভিডিও মেকার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।

আশাকরি আমাদের আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনার যে তথ্য জানার প্রয়োজন ছিল সেটি জানতে পেরেছেন। কোন জানার বা মন্তব্য থাকলে মন্তব্য করতে পারেন। স্মার্টফোন বিষয়ক নিত্যনৈমিত্তিক অনেকে অজানা তথ্য আমাদের এই সাইটে আপনি পাবেন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Page লাইক দিয়ে এক্টিভ থাকুন। সাইটের নিচের অংশে আমাদের ফেইসবুক পেইজ দেয়া আছে। সেখানে স্মার্টফোন সম্পর্কিত নিয়মিত নিত্যনতুন আরো অজানা তথ্য জানতে পারবেন।

Previous Post Next Post